আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির মোড়ক উন্মোচন করেছে বিএনপি। দলটির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনী ইশতেহারে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন এবং কঠোর বার্তার প্রতিফলন ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ‘প্রভু-ভৃত্য’ সম্পর্কের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে এবার ‘জাতীয় স্বার্থ’ এবং ‘সমমর্যাদা’কে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন তারেক রহমান।
সীমান্ত হত্যা ও পানি বন্টনে অনড় অবস্থান
বিএনপির এবারের ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মন জয় করতে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাকে চাঙ্গা করতে এটি বিএনপির একটি অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ।
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থই হবে বন্ধুত্বের মাপকাঠি। ইশতেহারে বলা হয়েছে, ভারতসহ সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে, তবে তা হবে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ’ ও ‘নায্যতার’ ভিত্তিতে।
বিশ্লেষকদের মতামত
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে ভারতের মতো বৃহৎ প্রতিবেশীর সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক সম্পর্ক জরুরি। তবে গত ১৫ বছরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে বিএনপি যে হার্ডলাইন নিয়েছে, তা ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি বড় বার্তা। এটি কেবল নির্বাচনী স্লোগান নাকি ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাস্তবসম্মত কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তা সময় বলে দেবে।