আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের সুবাতাস বইছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনেই দেশে ১০৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১.০৬ বিলিয়ন ডলারের সমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এ বছর প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ ইতিবাচক। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছরই উৎসবের আগে প্রবাসীরা পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি করে অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয়ের এই ধারায় কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ২২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একক মাস।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এখন পর্যন্ত কোনো একটি অর্থবছরে সর্বোচ্চ। বর্তমান অর্থবছরের শুরু থেকেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এই ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।