প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুন্দর ও স্বনির্ভর দেশ গড়তে সবার ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নাগরিকরা নিজ নিজ কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করলে বাংলাদেশ দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেন। জীবনের কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষ সঠিক নির্দেশনার জন্য তাদের ওপর ভরসা রাখে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পরামর্শও খুঁজে পায়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সম্মানি, আর্থিক সহায়তা বা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায় সরকার। মূলত সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনাই এর মূল লক্ষ্য। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সুত্রে পাইলট প্রকল্পের আওতায় মসজিদ ও মন্দিরের কর্মীদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের জন্য বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা; যার মধ্যে ইমাম ৫, মুয়াজ্জিন ৩ এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা। অন্যদিকে, মন্দিরের জন্য বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে পুরোহিত ৫ এবং সেবাইত পাবেন ৩ হাজার টাকা।
বৌদ্ধ বিহার ও খ্রিস্টান চার্চগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিহার ও চার্চ পাচ্ছে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ বা সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানিয়েছেন, মসজিদে কর্মরতরা বছরে দুটি ঈদ মিলিয়ে মোট ২ হাজার টাকা বোনাস পাবেন। এছাড়া দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিনে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। তবে সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদানভুক্ত মসজিদগুলো এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না। ধর্মীয় উৎসবের সময় সরাসরি সংশ্লিষ্টদের হাতে এই অর্থ পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও জানান, এ সম্মানি দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। প্রতি অর্থবছরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ৪ বছরে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হবে। এ সম্মানী ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে এটি চালু হবে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্মানি দিতে চলতি অর্থবছরের বাকি চার মাসে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব উপাসনালয়ে চালু হবে। প্রতি বছর ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে, যা চার বছর ধরে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।