২৬ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লায় বাস-কার সংঘর্ষ: শাইখুল হাদিসসহ নিহত ৫

কুমিল্লায় বাস-কার সংঘর্ষ: শাইখুল হাদিসসহ নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বাস ও প্রাইভেটকারের ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকার মিয়ামী হোটেলের সামনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বাসিন্দা ও জামিয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদিস মুফতি আব্দুল মোমিন (৫০), তাঁর স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), মেয়ে লাবিবা (১৯) এবং ছোট ছেলে সাঈদ আশ্রাফ (৭)। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেনও (৫২)।

যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় মুফতি আব্দুল মোমিন সপরিবারে ঢাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে নোয়াখালী ফিরছিলেন। কালাকচুয়া এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রামগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। 

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে। মুমূর্ষু অবস্থায় সবাইকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মুফতি আব্দুল মোমিন, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও চালককে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা দুই ছেলে সাঈদ ও আবরারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে ছোট ছেলে সাঈদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে অন্য এক সন্তান হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। 

পুলিশের বক্তব্য
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, “ঘাতক বাস ও দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

শাইখুল হাদিস মুফতি আব্দুল মোমিনের এই আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর এলাকায় এবং আলেম সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক নিমিষেই একটি সাজানো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে শোকের মাতম।