১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ডিজেল সংকট কাটাতে দেশে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন জ্বালানি

ডিজেল সংকট কাটাতে দেশে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন জ্বালানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে চারটি বড় জাহাজ। এর মধ্যে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে এবং আগামী রোববার পৌঁছাবে চতুর্থ জাহাজটি। নতুন এই সরবরাহের ফলে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বন্দরে ভিড়বে ‘এমটি ওকট্রি’, ‘এমটি কেপ বনি’ ও ‘এমটি লিয়ান সং হু’ নামের তিনটি ট্যাংকার। এছাড়া আগামী রোববার ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’ নামের অবশিষ্ট জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় শিপিং এজেন্ট জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সবকয়টি ট্যাংকার থেকে ডিজেল খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হলে মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল দিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ২৫ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই মেটানো হয় ডিজেল দিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা ছিল ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার বড় অংশই সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বাকি অংশ অভ্যন্তরীণভাবে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। দেশের প্রায় ২৪ শতাংশ ডিজেল ব্যবহৃত হয় কৃষি সেচ কাজে। এছাড়া সড়ক ও নৌ-পরিবহন সচল রাখা এবং শিল্পকারখানার জেনারেটর পরিচালনায় এই জ্বালানি অপরিহার্য। সময়মতো এই বিশাল চালান আসায় সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ।