বিএনপিকে ১৭ কোটি মানুষের সেবক হিসেবে উল্লেখ করে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবার জন্যই কাজ করতে চায় বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে ফরিদপুর-২ আসনের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের সেবায় নিয়োজিত সরকার।
শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে থানায় হওয়া মামলাগুলো নিছক ব্যক্তিগত বিরোধের জের, কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই মাটিতে আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হবে না এবং সবারই নিজ নিজ দল করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যেখানে জনসেবাই হবে মূল লক্ষ্য।
লথার সহিংসতা ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:
ফরিদপুরের সালথায় চলমান সহিংসতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, জননিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা উস্কানি সহ্য করা হবে না। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর বশবর্তী হয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষণা দেন তিনি। শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনকে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহিংসতায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক—চাই সে বিএনপির কর্মী বা তার ঘনিষ্ঠ কেউ—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো কাউকেই ভবিষ্যতে রেহাই দেওয়া হবে না।
বিগত সরকারের কৃষি নীতির সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে কৃষকদের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। বিশেষ করে নদী ও খাল খনন না করায় দেশের জলাধারগুলো শুকিয়ে গেছে। এই সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। কৃষকদের ভাগ্য বদলে এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচি এ অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো উন্নয়ন বিএনপি সরকারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার। বক্তারা জনকল্যাণে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।