২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া লিটন ও বাংলাদেশ দল।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া লিটন ও বাংলাদেশ দল।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাসের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নজর কেড়েছে। প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্রস্থান পর্যন্ত তার মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। গত বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা প্রসঙ্গে অধিনায়ক লিটন জানান, দল সেই গ্লানি থেকে ইতিবাচকভাবে ‘মুভ অন’ করেছে। বিশ্বকাপের পর অন্য টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের চেষ্টাই এর প্রমাণ।

লিটন দাসের মতে, প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলোয়াড়দের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন সিরিজেও দল সেই গুরুত্ব অনুধাবন করেই মাঠে নামবে। গত কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে ক্রিকেটারদের মাঝে নতুন উদ্যম লক্ষ্য করা গেছে। অধিনায়ক আশা করছেন, জয়ী হওয়ার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

দেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয়, ক্রিকেটাররা তা করতে প্রস্তুত। জেতার সংকল্প নিয়ে মাঠে নামলে ভালো ফলাফল আসবে বলে লিটন দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত ও দলগত নৈপুণ্যের সমন্বয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সফল সিরিজ উপহার দেওয়াই এখন লিটন বাহিনীর মূল লক্ষ্য।

টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিরতি কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ দল। এই সিরিজ দিয়েই নতুন মেয়াদে অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করছেন লিটন কুমার দাস। গত দুই বছর সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর আবারও আগামী দুই বছরের জন্য তাঁর ওপরই আস্থা রেখেছে বোর্ড। নতুন এই যাত্রায় লিটনের মূল লক্ষ্য ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ।

লিটন মনে করেন, গত বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও দলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া দারুণ ছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসন্ন বিশ্বকাপের উপযোগী দল গড়তে চান তিনি। যেহেতু পরবর্তী বিশ্বকাপ এশিয়ার বাইরে কন্ডিশনে হবে, তাই এখন থেকেই সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন অধিনায়ক। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করাই তাঁর বর্তমান লক্ষ্য।

এই সিরিজে লিটনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি। দলের দুই প্রধান অস্ত্রকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে তাঁকে। তাদের জায়গায় প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার আব্দুল গাফফার ও রিপন মন্ডল। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন এই দুই নতুন মুখ।

পেসারদের পরিবর্তন নিয়ে লিটন জানান, তাসকিন-মোস্তাফিজদের কাজের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। সামনে ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে ব্যস্ত সূচি থাকায় তাঁদের চোটমুক্ত রাখতে চায় ম্যানেজমেন্ট। ভবিষ্যৎ ভাবনার জায়গা থেকেই নতুনদের সুযোগ দিয়ে পরখ করে নিতে চান তিনি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দলের এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে বলে লিটন উল্লেখ করেন।