টোকিও, ৯ মে ২০২৬
বিশ্বসেরা স্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জাপানে সংক্রামক ব্যাধি ‘হাম’ এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দশক আগে দেশটিকে ‘হামমুক্ত’ ঘোষণা করা হলেও সম্প্রতি এ রোগের প্রাদুর্ভাব নতুন করে মাথাব্যথার সৃষ্টি করেছে। জাপানের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের (JIHS) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।
২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জাপানকে হামমুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই অর্জন এখন হুমকির মুখে। এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত ৪৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড । ২০১৯ সালে দেশটিতে মোট ৭৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, তবে সংক্রমণের বর্তমান গতি সে বছরকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে
জাপানের গণসম্প্রচারকেন্দ্র এনএইচকে (NHK) জানিয়েছে, সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী টোকিও এবং এর আশেপাশের তিনটি জেলা । দেশের মোট সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই (১৮৩ জন) শনাক্ত হয়েছে এই অঞ্চলে । এছাড়া আইচি ও কাগোশিমা অঞ্চলেও ছোট ছোট গুচ্ছ সংক্রমণ বা ‘ক্লাস্টার’ দেখা দিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মূলত বিদেশফেরত যাত্রী এবং পর্যটকদের মাধ্যমেই এই ভাইরাস জাপানে প্রবেশ করেছে । শুরুতে নিউজিল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে সংক্রমণের সূত্রপাত ঘটলেও এখন তালিকাটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে । বিমানবন্দর ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে ভাইরাসটি দ্রুত স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা থাকলেও জাপানে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন । জাপানে উদ্বেগ বাড়ছে বয়স্ক এবং তরুণদের নিয়ে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে দুর্বল হয়ে পড়েছে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ এমন বয়সের যারা যথাযথভাবে ভ্যাকসিনের সব ডোজ সম্পন্ন করেননি অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাইরাসের এই দ্রুত বিস্তার ঘটছে । তাছাড়া টিকাদানের হার গত কয়েক বছরে ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়াও একটি বড় কারণ । জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন দ্রুত গণটিকাদান এবং ভ্রমণকারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে
তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে কয়েক হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে শত শত শিশুর] জাপানে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও রোগটির উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জাপান সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
জাপানের বর্তমান পরিস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থাকলেও সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে পুরনো রোগ ফিরে আসতে পারে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টোকিওসহ আক্রান্ত অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে । এখন দেখার বিষয়, জাপান তার কঠোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় এই প্রাদুর্ভাব দমন করতে পারে কি না।