সারাদেশের সড়কপথে চাঁদাবাজি রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কোনো সড়কেই চাঁদাবাজির সুযোগ নেই, আর লক্ষ্মীপুরে তো প্রশ্নই ওঠে না। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলায় এসে মন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকালে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এরপর তিনি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
লক্ষ্মীপুরের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে মন্ত্রী একটি মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের আওতায় ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ্যানি চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে লক্ষ্মীপুরবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। সরকার এই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুতই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
নদী ভাঙন রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মেঘনা নদী ও রহমতখালী খালের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো নিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রীর এই সফর ও উন্নয়নমুখী প্রতিশ্রুতিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা ও নদী ভাঙন নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অবসানের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলাবাসী। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। মন্ত্রীর এই তিন দিনের সফর জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতিবেগ সঞ্চার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



