আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ছুটির আমেজ শুরু হতেই চিরচেনা সেই ব্যস্ততম রূপে ফিরেছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন। প্ল্যাটফর্মজুড়ে এখন শুধু মানুষের ভিড় আর প্রিয়জনের কাছে ফেরার তীব্র আকুলতা। তীব্র গরম আর ভিড়ের চাপে হাঁসফাঁস অবস্থা হলেও বাড়ি যাওয়ার আনন্দের কাছে হার মেনেছে সব ক্লান্তি।
আজ সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষের এই জনস্রোত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সব কষ্ট ছাপিয়ে বাড়ি যাওয়ার খুশিতে সবার চোখে-মুখে আনন্দ ফুটে উঠেছে।
ভিড়ের মধ্যেই নজর কাড়ল একটি মধ্যবিত্ত পরিবার। পিঠে ভারি ব্যাগ নিয়ে ভিড় ঠেলে সামনে এগোচ্ছেন বাবা। তার ঠিক পাশেই ছোট ছেলেটি বড়দের মতো দায়িত্ব নিয়ে পরম উৎসাহে একটি নীল রঙের ট্রলি ব্যাগ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বাবার হাত শক্ত করে ধরে আছে গোলাপী ফ্রক পরা ছোট মেয়েটি। পেছনে ভারি ব্যাগ আর কোলে শিশু নিয়ে ধীরপায়ে এগোচ্ছেন মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এই চিত্রটি যেন কেবল একটি ভ্রমণের গল্প নয়; বরং ঈদকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগ ও অন্তহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের মাঝে কেউ ব্যাগ সামলাচ্ছেন, কেউবা ক্লান্ত শরীরে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। ট্রেন স্টেশনে আসামাত্রই শুরু হচ্ছে হুড়োহুড়ি। তপ্ত রোদ আর মানুষের চাপে স্টেশনের পরিবেশ গুমোট হয়ে উঠলেও প্রিয় মানুষের সাথে ঈদ উদযাপনের আকাঙ্ক্ষা সবাইকে এক সুতায় গেঁথেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শিডিউল বিপর্যয় রোধে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত থামবার নয়। সব প্রতিকূলতা জয় করে দিনশেষে প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়াই এই অগণিত মানুষের একমাত্র লক্ষ্য। স্টেশনের প্রতিটি কোণায় এখন কেবলই অপেক্ষার প্রহর আর আনন্দযাত্রার প্রতিধ্বনি।



