ইরান-ইসরায়েল তথা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে। বিশেষ করে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর কাঁচামাল ও তৈরি পণ্যের জন্য বহুলাংশে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঝুঁকিতে পড়ায় পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়া এবং বিমা খরচ ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে এই বিঘ্ন আমদানিকৃত কনডম, পিল এবং ইনজেকটেবল জন্মনিরোধকের উৎপাদন ও বিপণন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক রাসায়নিক উপাদান পেট্রোকেমিক্যাল উপজাত থেকে তৈরি হয়। ইরান যুদ্ধের উত্তাপে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক উপাদানের দামও বেড়ে যায়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব কোম্পানি এই সামগ্রী উৎপাদন করে, তাদের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় পাইকারি বাজারে ইতিমধ্যে মজুদদারির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে অপরিকল্পিত গর্ভধারণের হার বেড়ে যেতে পারে। এটি সরকারি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা স্বল্পমূল্যের বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে এখনই বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। একইসঙ্গে টিসিবির মতো জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর সরকারি বাফার স্টক তৈরি এবং বাজারে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় ভর্তুকি কিংবা শুল্ক ছাড়ের মতো বিষয়গুলোও বিবেচনা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



